পড়ালেখায় সফল হওয়ার উপায়: ভালো ছাত্র হওয়ার কৌশল
পড়ালেখায় সফল হওয়ার উপায় কী?
অনেকে ভাবে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াই সফলতা। কিন্তু আসলে পড়ালেখায় সফলতা মানে হলো বিষয়গুলো বোঝা, ধরে রাখা এবং জীবনে কাজে লাগানো। এর জন্য দরকার তিনটি জিনিস সঠিক পদ্ধতি, ধারাবাহিকতা এবং মনের শক্তি।
গবেষণা বলছে, মনোযোগের উপর প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ নির্ভর করে ভালোভাবে শেখার। তাই শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেই হবে না মনোযোগ দিয়ে পড়াটাই আসল কাজ।
১. লক্ষ্য নির্ধারণ করো
প্রতিদিন পড়তে বসার আগে ঠিক করো আজকে কী কী শেষ করবে। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, পড়াশোনাও এগোয়।
২. বোঝা ছাড়া পড়া নয়
শুধু মুখস্থ করলে পরীক্ষার পর সব ভুলে যাবে। বুঝে পড়লে মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ীভাবে তথ্য জমা থাকে। কোনো টপিক না বুঝলে থামো, শিক্ষককে জিজ্ঞেস করো বা ইউটিউবে দেখো।
৩. পুনরাবৃত্তি (Revision) করো নিয়মিত
একবার পড়লেই হবে না। Spaced Repetition পদ্ধতিতে ১ দিন, ৩ দিন, ৭ দিন, ১৪ দিন পর পর রিভিশন করলে পড়া মস্তিষ্কে স্থায়ী হয়।
একজন ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য
ভালো ছাত্র হওয়া মানে রোবটের মতো সারাদিন বই মুখস্থ করা না। একজন আদর্শ ছাত্রের কিছু নির্দিষ্ট গুণ থাকে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
- কৌতূহলী মন: নতুন কিছু শিখতে সব সময় আগ্রহী থাকে।
- সময়মতো কাজ: কাজ ফেলে রাখে না, deadline মেনে চলে।
- নোট তৈরির অভ্যাস: ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে নোট নেয়।
- প্রশ্ন করার সাহস: না বুঝলে চুপ থাকে না, জিজ্ঞেস করে।
- শরীর ও মনের যত্ন নেয়: ঘুম, খাওয়া ও বিশ্রাম ঠিক রাখে।
- সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে: পড়ার সময় ফোন দূরে রাখে।
- ব্যর্থতা থেকে শেখে: খারাপ ফলাফলে হাল ছেড়ে দেয় না।
খারাপ ছাত্র থেকে ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
- যদি মনে হয় তুমি পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে চিন্তা নেই। যেকোনো সময় শুরু করা যায়, শুধু দরকার সঠিক পদক্ষেপ।
- নিজের দুর্বল বিষয় খুঁজে বের করো কোন subject-এ সমস্যা সেটা চিহ্নিত করো এবং সেটাতে বেশি সময় দাও।
- প্রতিদিনের রুটিন বানাও ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শোওয়া পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ফলো করো।
- পড়ার জায়গা পরিষ্কার রাখো এলোমেলো পরিবেশে মন বিক্ষিপ্ত হয়। পরিষ্কার ও শান্ত জায়গায় পড়ো।
- Pomodoro technique চেষ্টা করো ২৫ মিনিট পড়ো, ৫ মিনিট বিশ্রাম নাও। এটা একাগ্রতা বাড়ায় অনেকটা।
- ভালো বন্ধুর সাথে পড়ো যারা পড়াশোনায় সিরিয়াস তাদের সাথে সময় কাটাও।
- নিজেকে পুরস্কার দাও একটি টপিক শেষ করলে নিজেকে ছোট্ট পুরস্কার দাও। এটা মোটিভেশন ধরে রাখে।
Pro Tip
একজন আদর্শ ছাত্রের দৈনিক রুটিন
একটি নির্দিষ্ট রুটিন না থাকলে সময় নষ্ট হয়, পড়াশোনায় ফাঁক থেকে যায়। এখানে একটি বাস্তবমুখী নমুনা রুটিন দেওয়া হলো যা তুমি নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করতে পারো।
সময় কাজ উদ্দেশ্য
- ভোর ৫:৩০ ঘুম থেকে ওঠা + ফজরের নামাজ সকাল তাজা রাখে মন।
- ৬:০০–৭:০০ কঠিন বিষয় পড়া (গণিত/বিজ্ঞান) সকালে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ।
- ৭:০০–৮:০০ ব্যায়াম + গোসল + নাস্তা শরীর ও মস্তিষ্ক সক্রিয় রা।
- ৮:০০–১:০০ স্কুল/কলেজ ক্লাসে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।
- ১:০০–৩:০০ দুপুরের খাবার + বিশ্রাম শরীরকে রিচার্জ ক।
- ৩:০০–৫:০০ ক্লাসের পড়া রিভিশন + হোমওয়ার্ক পড়া তাজা থাকে।
- ৫:০০–৬:০০ বিনোদন/খেলাধুলা মানসিক ভারমুক্তি।
- ৬:৩০–৯:০০ নতুন বিষয় পড়া ও নোট তৈরি জ্ঞান প্রস।
- ৯:০০–৯:৩০ পরদিনের পরিকল্পনা টার্গেট সেট ক।
- ১০:০০ ঘুম মস্তিষ্ক তথ্য প্রসেস করে।
ভালো ছাত্র হওয়ার কৌশল বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি
মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল
পড়তে বসলে মন অন্য দিকে চলে যায়? এটা খুব স্বাভাবিক। মনোযোগ একটি দক্ষতা চর্চার মাধ্যমে বাড়ানো যায়।
পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ধরে রাখার উপায়
অনেক শিক্ষার্থী কয়েকদিন খুব উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে, কিন্তু কিছুদিন পর সেই আগ্রহ কমে যায়। আসল সফলতা আসে প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে। একদিন ৮ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে:
- প্রতিদিনের জন্য ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করো।
- একসঙ্গে অনেক পড়ার চাপ নিও না।
- কোনো দিন পড়া মিস হলে পরের দিন দ্বিগুণ চাপ নেওয়ার চেষ্টা না করে আবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে যাও।
- প্রতিদিন পড়া শেষে নিজের অগ্রগতি লিখে রাখো।
- সপ্তাহ শেষে কী কী শিখেছ এবং কোথায় পিছিয়ে আছ তা পর্যালোচনা করো।
মনে রাখবে, Motivation সব সময় থাকবে না। তাই Motivation-এর ওপর নির্ভর না করে Discipline বা নিয়মিত অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবে?
পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে পড়া শুরু করলে মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং সব বিষয় ভালোভাবে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরীক্ষার আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।
ধাপ ১: পুরো সিলেবাসের তালিকা তৈরি করো
প্রথমে সব বিষয় ও অধ্যায়ের একটি তালিকা তৈরি করো। কোন অধ্যায় পড়া হয়েছে এবং কোনটি বাকি আছে, তা আলাদা করে চিহ্নিত করো।
ধাপ ২: গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করো
বিগত বছরের প্রশ্ন, শিক্ষক যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন এবং যেসব chapter থেকে বারবার প্রশ্ন এসেছে সেগুলো আগে পড়ো।
ধাপ ৩: পড়া + রিভিশন + টেস্ট
শুধু নতুন chapter শেষ করলেই হবে না। প্রতিটি chapter পড়ার পর revision এবং practice test রাখো।
একটি সহজ নিয়ম হতে পারে:
- প্রথম ধাপ: নতুন বিষয় শেখা
- দ্বিতীয় ধাপ: বই বন্ধ করে Active Recall
- তৃতীয় ধাপ: নির্দিষ্ট সময় পর Revision
- চতুর্থ ধাপ: প্রশ্ন সমাধান
- পঞ্চম ধাপ: ভুলগুলো আবার ঠিক করা
এভাবে পড়লে পরীক্ষার আগে সবকিছু একসঙ্গে মুখস্থ করার চাপ অনেক কমে যাবে।
পড়াশোনায় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবে
ভালোভাবে পড়ার পাশাপাশি কোন অভ্যাসগুলো পড়াশোনার ক্ষতি করছে, সেটাও জানা জরুরি। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বেশি সময় পড়েও প্রত্যাশিত ফলাফল পায় না শুধুমাত্র কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে।
১. শুধু বই পড়ে যাওয়া
বইয়ের দিকে তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়লেই শেখা হয় না। মাঝে মাঝে বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করো।
২. শুধু হাইলাইট করা
প্রয়োজনীয় অংশ চিহ্নিত করার জন্য হাইলাইট করা ভালো, কিন্তু পুরো বইয়ের লাইন হাইলাইট করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।
৩. শেষ মুহূর্তে সব পড়ার চেষ্টা করা
পরীক্ষার আগের রাতে পুরো syllabus শেষ করার চেষ্টা করলে চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে। তাই প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগিয়ে যাও।
৪. অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা
তোমার বন্ধু দিনে ৫ ঘণ্টা পড়ছে বলে তোমাকেও ৫ ঘণ্টা পড়তে হবে এমন নয়। নিজের দুর্বলতা, লক্ষ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করো।
৫. বিরতি না নিয়ে পড়া
একটানা দীর্ঘ সময় পড়লে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর ছোট বিরতি নাও এবং তারপর আবার পড়ায় ফিরে আসো।
৬. ভুল থেকে না শেখা
পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া মানেই তুমি ব্যর্থ নও। কোথায় ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করে পরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সেই ভুল সংশোধন করাই আসল উন্নতি।
- পড়ার আগে ৫ মিনিট গভীর শ্বাস নাও।
- ফোন অন্য ঘরে রাখো বা Airplane Mode-এ দাও।
- নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়ার অভ্যাস করো ধীরে ধীরে সময় বাড়াও।
- Background-এ সাদা শব্দ (white noise) বা প্রকৃতির শব্দ চালু রাখতে পারো।
মস্তিষ্ক সুস্থ না থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব। কিছু সহজ অভ্যাস তোমার ব্রেইনকে শার্প রাখতে সাহায্য করবে।- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমাও ঘুমের সময় মস্তিষ্ক তথ্য সংগঠিত করে।
- পর্যাপ্ত পানি পান করো পানিশূন্যতায় একাগ্রতা কমে যায়।
- নিয়মিত ব্যায়াম করো রক্ত সঞ্চালন বাড়লে মস্তিষ্কে অক্সিজেন বাড়ে।
- চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করো দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ স্মৃতিশক্তি কমায়।
মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাবার:
বাদাম ও আখরোট: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষ সুরক্ষিত রাখে।
ডিম: কোলিন নামক উপাদান স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
মাছ (বিশেষত সামুদ্রিক মাছ): DHA মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে।
ডার্ক চকলেট: ফ্ল্যাভোনয়েড মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
সবুজ শাকসবজি: ভিটামিন K মস্তিষ্কের সিন্যাপস কার্যকর রাখে।
কালোজিরা ও মধু: ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক ব্রেইন বুস্টার।
Pro Tip
সকালে পানি দিয়ে ভেজানো ৫–৭টি বাদাম খাও এবং রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করো। এটি মস্তিষ্কের সিন্যাপস সংযোগ শক্তিশালী করে।
মস্তিষ্কের সিন্যাপস বৃদ্ধির উপায়
সিন্যাপস হলো মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে সংযোগ বিন্দু। যত বেশি শিখবে, তত বেশি সিন্যাপস তৈরি হবে মস্তিষ্ক আক্ষরিক অর্থেই শক্তিশালী হবে।- নতুন দক্ষতা শেখো ,গান, আঁকা, কোডিং, যেকোনো কিছু।
- পাজল, দাবা বা মাইন্ড গেম খেলো।
- বই পড়ো নিয়মিত পড়া সিন্যাপস সংযোগ বাড়ায়।
- Meditation বা ধ্যান করো মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ বৃদ্ধি পায়।
কিভাবে মেধাবী হব ১৪টি বুদ্ধিমান আচরণ
মেধাবী হওয়া মানে শুধু পরীক্ষায় A+ পাওয়া না। বুদ্ধিমান মানুষের কিছু চিন্তার ধরন ও আচরণ থাকে যা তাদের জীবনে এগিয়ে রাখে।- নিজের ভুল স্বীকার করে: বুদ্ধিমানরা ভুল লুকায় না, বরং সেটা থেকে শেখে
- প্রশ্ন করে: সব কিছু মেনে না নিয়ে "কেন?" জিজ্ঞেস করে
- ধৈর্য রাখে: দ্রুত ফলাফলের আশা না করে দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা কর
- একাকীত্বকে ভয় পায় না: একা থেকে চিন্তা করার সুযোগ কাজে লাগায়
- অন্যের মতামত শোনে: নিজের চেয়ে ভিন্নমত গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে
- পড়ার অভ্যাস আছে: নিয়মিত বই পড়ে জ্ঞান বাড়ায়
- সমস্যাকে সুযোগ হিসেবে দেখে: বাধা দেখলে হতাশ না হয়ে সমাধান খোঁজে
- সময় নষ্ট করে না: অর্থহীন বিষয়ে সময় দেয় না
- কৃতজ্ঞ থাকে: ছোট ছোট সাফল্যেও খুশি থাকে
- শারীরিক সুস্থতার যত্ন নেয়: ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দেয়
- মনোযোগ দিয়ে শোনে: অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেয় না
- নতুন ধারণার প্রতি খোলা মন রাখে: পুরনো বিশ্বাস পরিবর্তন করতে ভয় পায় না
- নিয়মিত লেখে: চিন্তা ও পরিকল্পনা লিখে রাখে।
ঘুমকে গুরুত্ব দেয়: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে যুক্তি ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় বলে জানে।
পরীক্ষার হলে হঠাৎ সব ভুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এর কারণগুলো হলো:
- অতিরিক্ত চাপ ও উদ্বেগ: Cortisol হরমোন বেড়ে গেলে স্মৃতি recall কঠিন হয়।
- ঘুমের অভাব: ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে না।
- পর্যাপ্ত রিভিশন না করা: একবার পড়লে তথ্য দুর্বল হয়ে যায়।
- মাল্টিটাস্কিং: একসাথে অনেক কিছু করলে কোনোটাই ভালো মনে থাকে না।
- পানিশূন্যতা ও পুষ্টির অভাব: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
Pro Tip
পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত না পড়ে ভালো ঘুমাও। রাতে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সেদিনের পড়া পাকাপাকি সংরক্ষণ করে এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
উপসংহার
পড়ালেখায় সফল হওয়ার উপায় কোনো জাদুর কাঠি নয়। এটি হলো সঠিক কৌশল + ধারাবাহিক চেষ্টার সমন্বয়। তুমি আজ যেখানেই থাকো খারাপ ছাত্র হোক বা মাঝারি সঠিক রুটিন, মনোযোগী পড়া, সুস্থ জীবনযাপন এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।
মনে রেখো: "সফল ছাত্র বেশি পড়ে না সঠিকভাবে পড়ে।"
পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ধরে রাখার উপায়
অনেক শিক্ষার্থী কয়েকদিন খুব উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে, কিন্তু কিছুদিন পর সেই আগ্রহ কমে যায়। আসল সফলতা আসে প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে। একদিন ৮ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে:
- প্রতিদিনের জন্য ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করো।
- একসঙ্গে অনেক পড়ার চাপ নিও না।
- কোনো দিন পড়া মিস হলে পরের দিন দ্বিগুণ চাপ নেওয়ার চেষ্টা না করে আবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে যাও।
- প্রতিদিন পড়া শেষে নিজের অগ্রগতি লিখে রাখো।
- সপ্তাহ শেষে কী কী শিখেছ এবং কোথায় পিছিয়ে আছ তা পর্যালোচনা করো।
মনে রাখবে, Motivation সব সময় থাকবে না। তাই Motivation-এর ওপর নির্ভর না করে Discipline বা নিয়মিত অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবে?
পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে পড়া শুরু করলে মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং সব বিষয় ভালোভাবে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরীক্ষার আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।
ধাপ ১: পুরো সিলেবাসের তালিকা তৈরি করো
প্রথমে সব বিষয় ও অধ্যায়ের একটি তালিকা তৈরি করো। কোন অধ্যায় পড়া হয়েছে এবং কোনটি বাকি আছে, তা আলাদা করে চিহ্নিত করো।
ধাপ ২: গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করো
বিগত বছরের প্রশ্ন, শিক্ষক যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন এবং যেসব chapter থেকে বারবার প্রশ্ন এসেছে সেগুলো আগে পড়ো।
ধাপ ৩: পড়া + রিভিশন + টেস্ট
শুধু নতুন chapter শেষ করলেই হবে না। প্রতিটি chapter পড়ার পর revision এবং practice test রাখো।
একটি সহজ নিয়ম হতে পারে:
- প্রথম ধাপ: নতুন বিষয় শেখা
- দ্বিতীয় ধাপ: বই বন্ধ করে Active Recall
- তৃতীয় ধাপ: নির্দিষ্ট সময় পর Revision
- চতুর্থ ধাপ: প্রশ্ন সমাধান
- পঞ্চম ধাপ: ভুলগুলো আবার ঠিক করা
এভাবে পড়লে পরীক্ষার আগে সবকিছু একসঙ্গে মুখস্থ করার চাপ অনেক কমে যাবে।
পড়াশোনায় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবে
ভালোভাবে পড়ার পাশাপাশি কোন অভ্যাসগুলো পড়াশোনার ক্ষতি করছে, সেটাও জানা জরুরি। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বেশি সময় পড়েও প্রত্যাশিত ফলাফল পায় না শুধুমাত্র কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে।
১. শুধু বই পড়ে যাওয়া
বইয়ের দিকে তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়লেই শেখা হয় না। মাঝে মাঝে বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করো।
২. শুধু হাইলাইট করা
প্রয়োজনীয় অংশ চিহ্নিত করার জন্য হাইলাইট করা ভালো, কিন্তু পুরো বইয়ের লাইন হাইলাইট করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।
৩. শেষ মুহূর্তে সব পড়ার চেষ্টা করা
পরীক্ষার আগের রাতে পুরো syllabus শেষ করার চেষ্টা করলে চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে। তাই প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগিয়ে যাও।
৪. অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা
তোমার বন্ধু দিনে ৫ ঘণ্টা পড়ছে বলে তোমাকেও ৫ ঘণ্টা পড়তে হবে এমন নয়। নিজের দুর্বলতা, লক্ষ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করো।
৫. বিরতি না নিয়ে পড়া
একটানা দীর্ঘ সময় পড়লে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর ছোট বিরতি নাও এবং তারপর আবার পড়ায় ফিরে আসো।
৬. ভুল থেকে না শেখা
পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া মানেই তুমি ব্যর্থ নও। কোথায় ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করে পরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সেই ভুল সংশোধন করাই আসল উন্নতি।
.webp)
.webp)
আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url